রংপুরে গণপতি চক্রবর্তীসহ চারজন হত্যাকাণ্ড: সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি হিন্দু মহাসভার
রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও হোমিও চিকিৎসক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর শোক, ক্ষোভ ও উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু মহাসভা। সংগঠনটি ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ হিন্দু মহাসভার চেয়ারম্যান দীপক চন্দ্র গুপ্ত ও মহাসচিব সুনীল শুভ রায় বলেন, এ ঘটনায় পুলিশ ইতোমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের এখনো সন্তোষজনক উত্তর মেলেনি। তাই কাউকে চূড়ান্তভাবে দায়ী করার আগে পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
বিবৃতিতে বলা হয়, নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির সামনে দুটি মুদি দোকান ও একটি মন্দির রয়েছে। গ্রামটিতে প্রায় ২৫০টি পরিবারে আনুমানিক ৭০০ মানুষের বসবাস। এমন জনবহুল এলাকায় হত্যাকাণ্ডের পর বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলেও স্থানীয়ভাবে বিষয়টি কেন জানা গেল না, তা তদন্ত করে দেখার দাবি জানানো হয়েছে।
এছাড়া ঘটনার আগে গণপতি চক্রবর্তীর কাছে চাঁদা দাবি করা হয়েছিল বলে স্থানীয় সূত্রের বরাতে উল্লেখ করেছে সংগঠনটি। এই তথ্যের সত্যতা এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এর কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানানো হয়।
হত্যাকাণ্ডের পরদিন পর্যন্ত হত্যাকারীরা কীভাবে সেখানে অবস্থান করল, কীভাবে বাড়িতে প্রবেশ ও বের হলো, বিদ্যুৎ সংযোগ কে বিচ্ছিন্ন করল এবং বাইরে থেকে তালা লাগানোর ঘটনা কীভাবে ঘটল—এসব প্রশ্নেরও সুস্পষ্ট উত্তর দাবি করেছে হিন্দু মহাসভা।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, লাশ উদ্ধারের রাতে ঘটনাস্থলে থাকা তদন্তকারী প্রশাসনের এক কর্মকর্তার পরনের শার্ট পরবর্তীতে একজন আসামির গায়ে দেখা গেছে—এমন অভিযোগ বা তথ্য সত্য হলে সেটিরও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। পাশাপাশি ঘটনাস্থলের আলামত, পোশাক, ফরেনসিক প্রমাণ ও আসামিদের বক্তব্য যথাযথভাবে যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়।
বাংলাদেশ হিন্দু মহাসভা বলেছে, শুধু দুজনকে গ্রেপ্তার করলেই তদন্ত শেষ হয় না। প্রকৃত হত্যাকারী, সহযোগী কিংবা নেপথ্যের পরিকল্পনাকারী থাকলে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। কোনো নির্দোষ ব্যক্তিকে হয়রানি বা সাজানো মামলার শিকার করা যেমন কাম্য নয়, তেমনি দায়সারা তদন্তও মেনে নেওয়া হবে না।
সংগঠনটি বলেছে, তারা ‘২য় জজ মিয়া’ ধরনের তদন্ত চায় না; বরং প্রকৃত সত্য উদঘাটন, প্রকৃত আসামিদের গ্রেপ্তার এবং দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক বিচার চায়।
বিবৃতিতে নিহত চারজনের আত্মার শান্তি কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে। প্রেস বিজ্ঞপ্তিটি পাঠান বাংলাদেশ হিন্দু মহাসভার কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির দপ্তর সম্পাদক সাগর কর্মকার।
Create a Social Card
Convert this news into a shareable image card instantly.