চ্যানেল ওম নিউজ ডেস্ক

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় এক ভিক্ষুককে কম দামে ওষুধ দেওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক বিতর্ক। ‘প্রগতি মেডিকেল হল’ নামের একটি ফার্মেসি বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের বিরুদ্ধে। শুক্রবার সকাল থেকে সমিতির আল্টিমেটামের মুখে দোকানটি বন্ধ রাখা হয় বলে জানা গেছে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে এক অসহায় ভিক্ষুক ভিটামিন সিরাপ কিনতে এলে তার কাছে নির্ধারিত মূল্য না থাকায় ফার্মেসির পরিচালক সুদীপ্ত মানবিক কারণে ৩৫০ টাকার (Previncip কোম্পানির Primrol 450 ml) সিরাপটি মাত্র ১০০ টাকায় দেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমিতির নেতারা ক্ষুব্ধ হয়ে এক দিনের জন্য দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন এবং তা অমান্য করলে বড় অঙ্কের জরিমানার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কলাপাড়া কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইব্রাহিম খলিল দুলাল। তার দাবি, দোকানটি বন্ধ করার কোনো নির্দেশনা সমিতি দেয়নি; বরং ভেজাল ওষুধ বিক্রির অভিযোগে প্রগতি মেডিকেল হল কর্তৃপক্ষ নিজেরাই দোকান বন্ধ রেখেছে। তিনি আরও বলেন, দয়া দেখাতে হলে ওষুধ একেবারে বিনামূল্যে দেওয়া উচিত ছিল। যদিও কোনো সংগঠনের প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার ক্ষমতা রয়েছে কি না—এ প্রশ্নের সন্তোষজনক জবাব তিনি দিতে পারেননি।

এদিকে ফাতেমা মেডিকেল হলের মালিক মোশাররফ হোসেন অভিযোগ করেন, সমিতি পূর্বে তার কাছ থেকেও প্রায় ৬০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছে। তার দাবি, বেশি এমআরপি লেখা ওষুধ কিছুটা কম দামে বিক্রির বিষয়ে সমিতির কাছে বহুবার অনুরোধ করা হলেও তারা কোনো ছাড় দেয়নি।

আরও কয়েকজন ওষুধ ব্যবসায়ী অভিযোগ করেছেন, সমিতির মাধ্যমে সিন্ডিকেট গড়ে তুলে চাপ ও জরিমানার মাধ্যমে এক ধরনের জুলুম চালানো হচ্ছে। এ কারণে তারা সরকারি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসিন সাদেক বলেন, কোনো সমিতি বা সংগঠনের প্রতিষ্ঠান সিলগালা করা বা জরিমানা করার আইনগত ক্ষমতা নেই। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।