যীশু সেন

বিভাবরী সংগীতালয়ের শাস্ত্রীয় সংগীতানুষ্ঠানে কথামালায় বক্তারা বলেন - জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের অসাম্প্রদায়িক চেতনা, মানবতা, সাম্য, প্রেম ও দ্রোহের চিরন্তন প্রতীক।
সুস্থ সংস্কৃতি বিকাশে নজরুলচর্চার বিকল্প নেই।
নজরুলচর্চা মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক সমাজ গঠনে সহায়ক। তাঁর গান, কবিতা ও সুর শুধু বাংলা সাহিত্য ও সংগীতকে সমৃদ্ধ করেনি, মানুষের হৃদয়ে স্বাধীনতা, ন্যায়, ভালোবাসা ও সম্প্রীতির বীজও বপন করেছে। নজরুলচর্চা বাঙালির সাংস্কৃতিক চেতনা জাগ্রত রাখে। তাঁর সৃষ্টিকর্ম যুগে যুগে মানুষকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও জোগাবে। বক্তারা আরও বলেন -
সংগীত মানুষের জীবনের এক অমূল্য সম্পদ। এটি মানুষকে আনন্দ দেয়, মনকে প্রশান্ত করে, সৃজনশীলতা বাড়ায় এবং সমাজে ঐক্য সৃষ্টি করে।
সংগীত ছাড়া মানুষের জীবন অনেকটাই অসম্পূর্ণ। তাই সংগীতকে জীবনের একটি সুন্দর ও ইতিবাচক অংশ হিসেবে গ্রহণ করা উচিত। সুরের স্পর্শে প্রশান্ত হয় মন, সংগীতের মহিমায় সমৃদ্ধ জীবন, মানুষ ও সংগীত: এক অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক, সংগীত ছাড়া জীবন যেন অসম্পূর্ণ। বর্তমান সময়ে নতুন প্রজন্মকে সুস্থ সংস্কৃতি ও শুদ্ধ সংগীতচর্চার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আকাশ সংস্কৃতির নেতিবাচক প্রভাবে নতুন প্রজন্মের সাংস্কৃতিক চেতনা ও মূল্যবোধ ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে। এমন বাস্তবতায় বিভাবরী সঙ্গীতালয়ের মতো প্রতিষ্ঠান সাংস্কৃতিক আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে সুস্থ, শুদ্ধ ও মননশীল সংস্কৃতির পথে উদ্বুদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। তাদের এই নিরলস প্রচেষ্টা ও সাংস্কৃতিক দায়বদ্ধতা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।
গত ১৭ জুলাই, শুক্রবার, বিকাল ৫টায়, চট্টগ্রাম বন্দর দক্ষিণ মধ্যম হালিশহরস্থ উদয়ন সংঘ প্রাঙ্গনে বিভাবরী সংগীতালয় আয়োজনে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মরণে এক বিশেষ শাস্ত্রীয় ও উপশাস্ত্রীয় সংগীতানুষ্ঠানে কথামালায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের নজরুল সংগীত শিল্পী অধ্যাপক পিন্টু ঘোষ, উদ্বোধক ছিলেন উদয়ন সংঘের সভাপতি মতিলাল দে, বিশেষ অতিথি ছিলেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সাংবাদিক যীশু সেন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন অনুষ্ঠান উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব জয় দে। বাচিক শিল্পী পার্থ প্রতীম মহাজন এর সঞ্চালনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বিভাবরী সংগীতালয় এর প্রশিক্ষক পুষ্পিতা দে। বক্তব্য রাখেন - উদয়ন সংঘের সহ-সভাপতি সুদর্শন দে, যুগ্ম- সম্পাদক রঞ্জন দে ডেনী, বীর মুক্তিযোদ্ধা হীরা লাল বনিক, সাংগঠনিক সম্পাদক সবুজ দে রতন প্রমূখ।
আলোচনা সভা শেষে শাস্ত্রীয় সংগীতানুষ্ঠানে আমন্ত্রিত শিল্পী অংশগ্রহণ করেন মিটন বিশ্বাস (মোহনবীণা), অমর্ত্য চক্রবর্তী (তবলা), পুষ্পিতা দে (কণ্ঠ), পুষ্পিতা শীল (হারমোনিয়াম), শ্যামল চন্দ্র দাশ (বেহালা), সৃজন রায় (কীবোর্ড), নন্দন নন্দী (অক্টোপ্যাড), সুচয়ন দে (গিটার)।
একক সংগীত পরিবেশন করেন - জয়শ্রী ধর, লিটন কান্তি সরকার, রুমি দাশ, তুষার দাশ,
রুম্পা মল্লিক, প্রমী সরকার।
অনুষ্ঠানে বিভাবরী সংগীতালয়ের শিক্ষার্থীরা সংগীত পরিবেশনে অংশগ্রহণ করেন - শ্রাবন্তী দে, দিগন্ত দেবনাথ, কৃপা চৌধুরী, জয়ন্তী দে পূর্ণা, রাশি দাশ, লাবনি বড়ুয়া তুলি, আরাধ্যা দও (তুহি), দিপিকা দে, পূর্ণতা দে অথৈ, রক্তিম দে, আদিত্য দাশ, প্রথা দেবী, অয়ন দেবনাথ, তাথৈ দে কথা, দীঘি দে, আরাধ্যা দত্ত, ঈশান চৌধুরী, প্রাঙ্গন দাশ, সায়ন্ত দে, শ্রী দাশ অথৈ, শ্রাবন্তী দাশ, তিথি সিকদার, আঁখি দাশ, তনিস্কা দে, ঋদ্ধি নন্দী, ভূমি রাণী নাথ, সায়েরী মুৎসুদ্দী, অনিক দাশ, আরিত্রি দাশ, শ্রেয়ান সৌম্য দাশ, শ্রেয়াঞ্জলি দাশ, আরিয়ান দত্ত, রিঝু দে, ঐশী দেবী, শুভমিতা দাশ, শুভ্রনীল দাশ। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথিবৃন্দকে ফুলেল শুভেচ্ছা, উত্তরীয় ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। সার্বিক সহযোগিতা ছিলেন উদয়ন সংঘ।
সংগীতের সুর, সাধনা ও ঐতিহ্যের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মধ্যে সাংস্কৃতিক চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয় নিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।