২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছিলেন মেধাবী শিক্ষার্থী চন্দ্র তালুকদার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) এবং কৃষি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদে ভর্তির সুযোগ পান তিনি। তবে একটি অনিচ্ছাকৃত ভুলে আজ তার উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন অনিশ্চয়তার মুখে।
নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান চন্দ্রের বাবা একজন অটোরিকশাচালক। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কেই বেছে নেন।
ভর্তির দিন হল বরাদ্দ, ভর্তি ফি জমা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই এবং ব্যাংক হিসাব খোলাসহ প্রায় সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন তিনি। কিন্তু ভর্তি প্রক্রিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ—মূল মার্কশিট ও টেস্টিমোনিয়াল জমা দেওয়ার বিষয়টি অনিচ্ছাকৃতভাবে বাদ পড়ে যায়।
পরবর্তীতে ক্লাস করতে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে তিনি জানতে পারেন, প্রয়োজনীয় মূল কাগজপত্র জমা না দেওয়ায় তার ভর্তি বাতিল করা হয়েছে।
জানা গেছে, ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষে কৃষি অর্থনীতি অনুষদের তিন শিক্ষার্থী—শম্পা, আফিফা ও নওসিনের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মানবিক বিবেচনায় তাদের ভর্তি বহাল রাখা হয়।
এই ঘটনার পর শিক্ষার্থী, শিক্ষক, শুভানুধ্যায়ী ও সচেতন নাগরিকদের পক্ষ থেকে বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনার দাবি উঠেছে। তাদের ভাষ্য, একটি অনিচ্ছাকৃত ভুলের কারণে একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন এবং একটি নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের স্বপ্ন ভেঙে যাওয়া উচিত নয়।
একই সঙ্গে কৃষি গুচ্ছ ভর্তি কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে চন্দ্র তালুকদারের বিষয়ে পুনর্বিবেচনার আবেদন জানানো হয়েছে।
পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর প্রত্যেক শিক্ষার্থীর মোবাইল নম্বরে "আপনার ভর্তি প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে"—এমন স্বয়ংক্রিয় নিশ্চিতকরণ (Confirmation) এসএমএস বা নোটিফিকেশন চালুরও দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, এ ধরনের ডিজিটাল নিশ্চিতকরণ ব্যবস্থা চালু হলে ভবিষ্যতে অনেক শিক্ষার্থী অনাকাঙ্ক্ষিত জটিলতা থেকে রক্ষা পাবেন।
Create a Social Card
Convert this news into a shareable image card instantly.