চ্যানেল ওম নিউজ ডেস্ক

ভারতের উত্তর প্রদেশের মথুরা থেকে আধ্যাত্মিক গুরুর পরিচয়ে তরুণীদের যৌন নিপীড়ন, প্রতারণা এবং আপত্তিকর ছবি-ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে এক আইআইটি গ্র্যাজুয়েটকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম অভিষেক মিশ্র (২৯)। ওড়িশার বাসিন্দা অভিষেক আধ্যাত্মিক জগতে নিজেকে ‘আদিকর্তা নারায়ণ দাস’ নামে পরিচয় দিতেন। তিনি ২০১৭ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে Indian Institute of Technology Roorkee থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, ছত্তিশগড়-এর এক তরুণীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা দায়ের করা হয়। পরে তদন্তের একপর্যায়ে মথুরা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তদন্তে জানা গেছে, গত প্রায় চার বছর ধরে মথুরা-র রাধাকুঞ্জ এলাকায় বসবাস করছিলেন অভিষেক। সেখানে তিনি নিজেকে ধর্মীয় উপাখ্যান বক্তা বা কথাবাচক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেন। নিজের অনুসারী বাড়ানোর লক্ষ্যে তিনি ‘রাধাক্রপা অমৃতা’ নামে একটি ইউটিউব চ্যানেল পরিচালনা করতেন, যেখানে হিন্দি ও ইংরেজি ভাষায় ধর্মীয় আলোচনা ও প্রবচন প্রচার করা হতো। একই পরিচয়ে তার একটি লিংকডইন প্রোফাইলও ছিল।

অভিযোগ অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করে তিনি প্রথমে তরুণীদের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তুলতেন। পরে তাদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হতে প্ররোচিত করে নিজের আশ্রমসদৃশ আস্তানায় নিয়ে আসতেন। একসময় সেখানে প্রায় ২৪ জন তরুণ-তরুণী একসঙ্গে বসবাস করছিলেন।

পুলিশের ভাষ্য, তরুণীরা তার প্রভাববলয়ে চলে আসার পর তিনি হিন্দু শাস্ত্রের ‘গন্ধর্ব বিবাহ’-এর ব্যাখ্যা ব্যবহার করে তাদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতেন। এছাড়া প্রসাদের নামে নেশাজাতীয় পদার্থ মিশ্রিত দুধ পান করিয়ে অচেতন বা অর্ধচেতন অবস্থায় যৌন নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

তদন্তকারীরা জানান, এসব ঘটনার ছবি ও ভিডিও গোপনে ধারণ করে সংরক্ষণ করতেন অভিষেক। তার মোবাইল ফোন থেকে ইতোমধ্যে বিপুল পরিমাণ আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও উদ্ধার করা হয়েছে।

এছাড়া আশ্রমে অবস্থানরত তরুণ-তরুণীদের পরিবারের কাছ থেকে বিভিন্ন সময় মোটা অঙ্কের অর্থ আদায়ের অভিযোগও উঠেছে। প্রায় ছয় মাস আগে এক তরুণীর পরিবার তাকে ফিরিয়ে নিতে গেলে অভিষেক ও তার সহযোগীরা বাধা সৃষ্টি করে এবং উত্তেজনাকর পরিস্থিতির জন্ম দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ আরও জানায়, প্রথমদিকে ভাড়া বাসায় থাকলেও পরবর্তীতে রাধাকুঞ্জ এলাকায় নিজস্ব বাড়ি নির্মাণ করেন অভিষেক। তবে সময়ের সঙ্গে তার কর্মকাণ্ড নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে আশ্রমের অনেক সদস্য তাকে ছেড়ে চলে যান।

এই চক্রের মাধ্যমে আরও কতজন তরুণী প্রতারণা, শোষণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তা জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।