চ্যানেল ওম নিউজ ডেস্ক

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলায় রাজলক্ষ্মী পূরবী (২৫) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, যৌতুকের টাকা না দেওয়ায় তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত স্বামী চঞ্চল হালদার ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে দাবি করলেও ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে গোসাইরহাট উপজেলার নাগেরপাড়া এলাকার কৃষক সুনীল মণ্ডলের মেয়ে রাজলক্ষ্মী পূরবীর সঙ্গে ভেদরগঞ্জ উপজেলার সিঙারচড়া এলাকার রামচন্দ্র হালদারের ছেলে চঞ্চল হালদারের বিয়ে হয়।

বিয়ের পর থেকেই পূরবীর ওপর যৌতুকের জন্য চাপ ও নির্যাতন চলত বলে অভিযোগ পরিবারের। স্বজনদের দাবি, স্বামী চঞ্চল হালদারের কোনো স্থায়ী পেশা না থাকায় তিনি প্রায়ই শ্বশুরবাড়ি থেকে টাকা দাবি করতেন। সর্বশেষ মালয়েশিয়া যাওয়ার কথা বলে চার লাখ টাকা যৌতুক চাওয়া হয়।

এই টাকা জোগাড় করতে গত মঙ্গলবার (১৯ মে) পূরবীকে বাবার বাড়ি পাঠানো হয়। কিন্তু দরিদ্র পরিবারের পক্ষে সেই টাকা দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় তিনি খালি হাতেই স্বামীর বাড়িতে ফিরে আসেন। পরদিন বুধবার (২০ মে) সকালে পরিবারের সদস্যরা ঘরের আড়ার সঙ্গে তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান।

পরে দ্রুত তাকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর থেকেই স্বামী চঞ্চল হালদার আত্মগোপনে রয়েছেন।

নিহতের বাবা সুনীল মণ্ডল অভিযোগ করে বলেন, তার মেয়েকে নিয়মিত মারধর করা হতো এবং যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় তাকে হত্যা করা হয়েছে। একইভাবে নিহতের মা দুলালী রানী জানান, এর আগেও ধারদেনা করে ৭০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল, এরপরও টাকা দাবি অব্যাহত ছিল।

অন্যদিকে, অভিযুক্তের মা লক্ষ্মী রানী বিদেশ যাওয়ার জন্য টাকা চাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, টাকা না পেয়ে অভিমানেই পূরবী আত্মহত্যা করেছেন।

এদিকে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হাসপাতালে আনার আগেই পূরবীর মৃত্যু হয়। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

ভেদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাসার জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার প্রক্রিয়া চলছে এবং পলাতক স্বামীকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।