শিবচতুর্দশীর এক ধর্মীয় আয়োজন থেকে শুরু হয়েছিল যাত্রা। ২০১৯ সালে শৈব সংঘের আয়োজনে শিবগীতা পাঠ করেন অলোক দেবনাথ ও তাঁর দল। সেই অনুষ্ঠানে তাঁদের পরিবেশনা ভক্তদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে। পরে টানা তিন বছর ধরে শিব স্তুতি পাঠ ও শিব তাণ্ডব পরিবেশন করে সনাতনী ভক্তবৃন্দের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা করে নেয় দলটি।
এই ধারাবাহিক সাড়া ও ধর্মীয় আবেগ থেকেই নতুন একটি ভাবনার জন্ম হয়। অলোক দেবনাথ, সত্যজিৎ দে ও প্রাণেষ ভট্টাচার্য সিদ্ধান্ত নেন, শুধু আনুষ্ঠানিক পরিবেশনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে একটি পূর্ণাঙ্গ ধর্মীয় ব্যান্ড গড়ে তুলবেন। যে ব্যান্ড সঙ্গীতের মাধ্যমে সনাতন ধর্মের চেতনা ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেবে।
সেই ভাবনার বাস্তব রূপ ‘ডমরু ব্যান্ড’। ২০২২ সালে ব্যান্ডটির আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ঘটে। এরপর থেকেই বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ও ধর্মীয় আয়োজনে তাদের পরিবেশনা নতুন মাত্রা যোগ করে। মহাদেবের স্তোত্র, শ্রী রামের জয়গান কিংবা আদি শঙ্করাচার্যের রচনায় সজ্জিত সঙ্গীত পরিবেশনা রাতভর ভক্তিময় আবহ তৈরি করে।
বর্তমানে ব্যান্ডটিতে রয়েছেন অলোক দেবনাথ, সত্যজিৎ দে, প্রাণেষ ভট্টাচার্য, কাঞ্চন দাশ, রুপ্লব গুপ্ত, দীপংকর চক্রবর্তী, বেস পরি ও বিজয় সব্যসাচীর মতো গুণী শিল্পীরা। ব্যান্ডসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, তাঁদের প্রতিটি সুর ও ছন্দের মূল উদ্দেশ্য ভক্তির অনুভূতি জাগিয়ে তোলা এবং ধর্মীয় সংস্কৃতিকে মানুষের অন্তরে পৌঁছে দেওয়া।
ডমরু ব্যান্ডের এই দীর্ঘ পথচলায় শুরু থেকেই পাশে রয়েছে শৈব সংঘ। সংগঠনটির সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতায় ধর্মীয় সংগীতচর্চার এই উদ্যোগ আরও বিস্তৃত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের বিশ্বাস, সনাতন ধর্মের বৈদিক ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক চেতনাকে সামনে রেখে ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
“সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ধারণ করেই এগিয়ে যাক সনাতনী সমাজ” এমন প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন ব্যান্ডটির সদস্যরা।
Create a Social Card
Convert this news into a shareable image card instantly.