চ্যানেল ওম নিউজ ডেস্ক
চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ আন্দোলন সংশ্লিষ্ট সব কারাবন্দির মুক্তি এবং সংখ্যালঘু নির্যাতন বন্ধের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশ সনাতন পার্টির সাতক্ষীরা জেলা শাখার নেতারা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এ স্মারকলিপি পেশ করেন।
ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক বিষ্ণুৃপদ পাল–এর কাছে স্মারকলিপি তুলে দেন মানবাধিকার কর্মী রঘুনাথ খাঁ, জেলা শাখার সদস্য সচিব মনোদ্বীপ কুমার মণ্ডল, যুগ্ম আহ্বায়ক সুজন কুমার সানাসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতারা।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর থেকেই তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ও পরবর্তীতে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন, ভূমি দখল ও দেশত্যাগের প্রবণতা ধারাবাহিকভাবে চলে আসছে। ১৯৬৪ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, শত্রু সম্পত্তি আইন এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংখ্যালঘুদের ওপর সংঘটিত নির্যাতনের প্রসঙ্গও সেখানে তুলে ধরা হয়।
এতে উল্লেখ করা হয়, স্বাধীনতার পর সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমঅধিকারের নিশ্চয়তা থাকলেও বাস্তবে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়নি। রাজনৈতিক সহিংসতা, নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি ও সামাজিক বিরোধকে কেন্দ্র করে এখনও হামলা, সম্পত্তি দখল, মন্দির ভাঙচুর, অপহরণ ও হত্যার ঘটনা ঘটছে বলে দাবি করা হয়।
স্মারকলিপিতে সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনারও উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে কক্সবাজারে নয়ন সাধু হত্যা, কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা, ময়মনসিংহের ভালুকায় দীপু চন্দ্র দাসকে নির্যাতনের পর পুড়িয়ে হত্যা, সাতক্ষীরায় বীথিকা রানী সাধু হত্যা মামলা, পশু চিকিৎসক ডা. অনিমেষ পরমান্য অপহরণ এবং কালিগঞ্জে মাধবী মণ্ডল ও তার ছেলে শঙ্কর মণ্ডলের ওপর হামলার ঘটনা। এছাড়া ফরিদপুরে রঞ্জিত সরকার হত্যা, টাঙ্গাইলে এক গর্ভবতী নারীকে ধর্ষণের পর হত্যা, কক্সবাজারে গণেশ পাল হত্যা ও খুলনায় ভারতী রানী হত্যার বিষয়ও স্মারকলিপিতে তুলে ধরা হয়।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে দ্রুত “সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন” প্রণয়ন, সংখ্যালঘু নির্যাতনের মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং আন্দোলনের মামলায় আটক চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ সব কারাবন্দির মুক্তির দাবি জানানো হয়।
বাংলাদেশ
চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ কারাবন্দিদের মুক্তির দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি
May 7, 2026
63 Views
Create a Social Card
Convert this news into a shareable image card instantly.