চ্যানেল ওম নিউজ ডেস্ক
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় নিয়মিত ও অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা সিলেবাস ও প্রশ্নপত্রের জটিলতায় পড়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন পরীক্ষার্থী শর্মি দাস। রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত সমস্যার কারণে বোর্ড তাকে ‘অনিয়মিত’ শিক্ষার্থী হিসেবে চিহ্নিত করায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। চ্যানেল ওম।
শর্মির বাবা শ্যামল চন্দ্র দাস জানান, ২০২৩ সালে নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় অসুস্থতার কারণে পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ে শর্মি। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে তাকে পুনরায় নবম শ্রেণিতে ভর্তি করা হয় এবং তখন থেকেই নতুন জাতীয় শিক্ষাক্রম অনুযায়ী পড়াশোনা শুরু করে। তবে পূর্বের রেজিস্ট্রেশন বাতিল বা হালনাগাদ না হওয়ায় সে অনিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ সেশনের নিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের ২০২৬ সালের পরীক্ষায় অংশ নিতে হলে ২০২৫ সালের পুরোনো পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে পরীক্ষা দিতে হবে। কিন্তু শর্মি গত দুই বছর নতুন কারিকুলাম ও ২০২৬ সালের সংক্ষিপ্ত সিলেবাস অনুসরণ করে পড়াশোনা করেছে। ফলে যে সিলেবাস সে কখনো পড়েনি, সেই সিলেবাসে পরীক্ষা দিতে গিয়ে সে চরম মানসিক চাপে পড়ে। চ্যানেল ওম।
শর্মি জানায়, পরীক্ষা হলে গিয়ে প্রশ্নপত্রে ২০২৫ সালের সিলেবাস উল্লেখ দেখে সে শিক্ষকদের বিষয়টি জানায়। তবে দায়িত্বরত শিক্ষকরা জানান, প্রবেশপত্র অনুযায়ী তার কিছু করার নেই। পরে স্কুলের এক শিক্ষককেও ডাকা হলেও সেখান থেকেও কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি।
স্কুলের এক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, শর্মি কখনো তাকে জানায়নি যে সে অনিয়মিত শিক্ষার্থী। ক্লাসে থাকা অন্য শিক্ষার্থীদের মতোই তাকে নিয়মিত ধরে নেওয়া হয়েছিল।
শর্মির বাবা অভিযোগ করেন, স্কুল কর্তৃপক্ষ রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত বিষয়টি তাদের জানায়নি। এমনকি শর্মি রেজিস্ট্রেশন কার্ডও পায়নি, যদিও তার সহপাঠীরা পেয়েছে। রেজিস্ট্রেশন কার্ড ছাড়া কীভাবে সে পরীক্ষা দিয়েছে—এ প্রশ্নে তিনি বলেন, জেএসসি ও এসএসসির রেজিস্ট্রেশন নম্বর এক হওয়ায় বিষয়টি নজরে আসেনি, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ছিল।
এ বিষয়ে বিসিএসআইআর স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জাফর উল্লাহ দাবি করেন, অন্যান্য শিক্ষার্থীরা রেজিস্ট্রেশন কার্ড পেলেও শর্মি নিজেই তা নেয়নি।
অন্যদিকে, ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার ঘটনাটিকে শিক্ষকদের দায়িত্বহীনতা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি জানান, ইতোমধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করা হয়েছে এবং পরীক্ষার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, এনসিটিবি থেকে একাধিকবার বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নিয়মিত ও অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের সিলেবাস সংক্রান্ত নির্দেশনা জানানো হয়েছিল। যাদের রেজিস্ট্রেশন ২০২৩-২৪ বা তার আগে, তাদের ২০২৫ সালের সিলেবাসে এবং ২০২৪-২৫ সেশনের নিয়মিত শিক্ষার্থীদের নতুন সিলেবাসে পরীক্ষা দেওয়ার নির্দেশ ছিল।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আরও জানান, আগে থেকে বিষয়টি জানানো হলে সমাধানের সুযোগ ছিল। কিন্তু প্রতিষ্ঠানগুলো তা করেনি। বর্তমানে বিপুল সংখ্যক নিয়মিত ও অনিয়মিত শিক্ষার্থীর জন্য আলাদা প্রশ্নপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে, তাই পরীক্ষার হলে গিয়ে সিলেবাস পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।
Create a Social Card
Convert this news into a shareable image card instantly.