চ্যানেল ওম নিউজ ডেস্ক

ভারতের খ্যাতিমান আলোকচিত্রী রঘু রাই রোববার নয়াদিল্লির একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের আলোকচিত্র ধারণকারী বিদেশি ফটোগ্রাফারদের মধ্যে রঘু রাই ছিলেন অগ্রগণ্য। ভারতের প্রভাবশালী পত্রিকা দ্য স্টেটমেন্ট এর প্রধান আলোকচিত্র সাংবাদিক হিসেবে তিনি সেই সময় ভারতের বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে ঘুরে উদ্বাস্তু বাংলাদেশিদের দুর্বিষহ জীবন তুলে ধরেন তাঁর ক্যামেরায়।

শুধু শরণার্থী শিবির নয়, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি সরাসরি বাংলাদেশে প্রবেশ করে মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধক্ষেত্রের দৃশ্য, বিজয়ের পর তাদের প্রত্যাবর্তন এবং পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের মুহূর্তও ধারণ করেন। তাঁর এসব আলোকচিত্র একদিকে যেমন মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক দলিল, অন্যদিকে তাঁকে এনে দেয় আন্তর্জাতিক খ্যাতি।

রঘু রাইয়ের ছেলে আলোকচিত্রী নীতিন রাই জানান, গত দুই বছর ধরে তাঁর বাবা প্রোস্টেট ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন। প্রথমে সুস্থ হলেও পরে তা পাকস্থলী ও সর্বশেষ মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়ে। পাশাপাশি বয়সজনিত নানা জটিলতাও দেখা দেয়।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ভারতীয় সময় বিকেল চারটায় নয়াদিল্লিতে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হবে।

১৯৪২ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের ঝাং (বর্তমানে পাকিস্তানে) জন্মগ্রহণ করেন রঘু রাই। ১৯৬২ সালে বড় ভাই আলোকচিত্রী এস পল-এর কাছে আলোকচিত্রের হাতেখড়ি নেন। পরে ১৯৬৫ সালে নয়াদিল্লিতে দ্য স্টেটমেন্টে যোগ দিয়ে পেশাদার জীবন শুরু করেন এবং পরবর্তীতে ইন্ডিয়া টুডেসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন।

দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বহু ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার ছবি তুলেছেন। পাশাপাশি ইন্দিরা গান্ধী, মাদার তেরেসা, দালাই লামা ও সত্যজিৎ রায়-এর মতো বিশ্বখ্যাত ব্যক্তিত্বদেরও ক্যামেরাবন্দি করেছেন তিনি।

১৯৭২ সালে ভারত সরকার তাঁকে দেশের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘পদ্মশ্রী’ প্রদান করে। মুক্তিযুদ্ধ, শরণার্থীদের দুর্দশা ও পাকিস্তানের আত্মসমর্পণ নিয়ে অসাধারণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি এই সম্মান লাভ করেন।

রঘু রাই তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ১৮টিরও বেশি বই প্রকাশ করেছেন। তাঁর তোলা ছবি প্রকাশিত হয়েছে টাইম, লাইফ, দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, নিউজউইক, দ্য নিউ ইয়র্কার এর মতো বিশ্বখ্যাত গণমাধ্যমে।