চ্যানেল ওম নিউজ ডেস্ক
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় একটি মন্দিরে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার ভোররাতে উপজেলার বহরা ইউনিয়নের মনতলা স্টেশন বাজারসংলগ্ন রাজাপুর গ্রামে শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর মন্দিরে এ ঘটনা ঘটে। এতে মন্দিরের বিভিন্ন স্থাপনা পুড়ে গিয়ে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, সকালে কাজে যাওয়ার সময় কয়েকজন শ্রমিক মন্দিরে আগুন জ্বলতে দেখে আশপাশের লোকজনকে খবর দেন। পরে এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালান। তবে ততক্ষণে মন্দিরের টিনশেড ঘর, পূজার সামগ্রী এবং একটি পানির ট্যাংকিসহ বিভিন্ন স্থাপনা পুড়ে যায়। মন্দির কর্তৃপক্ষের দাবি, এতে প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ এটিকে পরিকল্পিত নাশকতা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ মাদকাসক্তদের সম্পৃক্ততার আশঙ্কা করছেন। অন্যদিকে, কিছু মানুষের ধারণা এটি দুর্ঘটনাজনিতও হতে পারে। খবর পেয়ে মনতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং তদন্ত শুরু করেছেন।
মন্দির কমিটির সভাপতি নারায়ণ পদ পাল দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ঘটনার পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা প্রয়োজন।
এর আগে, গত ১৭ এপ্রিল নোয়াপাড়া ইউনিয়নের উত্তর শাহপুর এলাকায় গভীর রাতে ছয়টি প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এছাড়া কয়েক মাস আগে স্থানীয় সুরমা চা বাগান এলাকায়ও কয়েকটি মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর ও চুরির অভিযোগ উঠেছিল। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
স্থানীয় সংখ্যালঘু অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদের আহ্বায়ক বিশ্বজিৎ পাল বলেন, মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক রয়েছে। তবে একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে মাদকাসক্তদের সম্পৃক্ততাও তদন্তে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
দক্ষিণ মাধবপুর উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি আনোয়ার হোসেন বেলাল বলেন, প্রকৃত ধর্মপ্রাণ মানুষ কখনো অন্য ধর্মের উপাসনালয়ে আঘাত করতে পারে না। এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের প্রতিহত করতে হবে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা জানান, ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ বিন কাসেম বলেন, এটি নাশকতা নাকি দুর্ঘটনা—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং পুলিশ ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে।
এদিকে, একের পর এক এ ধরনের ঘটনার পর স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
Create a Social Card
Convert this news into a shareable image card instantly.