‎পূর্ণিমার আলোয় সাদা কুয়াশা যখন পাহাড়ঘেরা মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জকে ঢেকে দেয়, তখন সুর আর তালে মেতে ওঠে মণিপুরি পাড়াগুলো। শতবর্ষের ঐতিহ্য আর কৃষ্ণভক্তির আবেশে মৃদঙ্গের তান, ছন্দে ছন্দে রাধা-কৃষ্ণের লীলা মূর্ত হয়ে ওঠে। বৃহত্তর সিলেটের মণিপুরি সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আয়োজন মহারাস উৎসবকে ঘিরে এখন উৎসবমুখর সময় কাটাচ্ছেন মণিপুরিরা।

‎পূর্ণিমার রাতে শ্রীশ্রী কৃষ্ণের মহারাসলীলা অনুষ্ঠিত হওয়ার আর মাত্র কয়েক দিনের অপেক্ষা। এই উৎসব ঘিরে চলছে দিনরাত প্রস্তুতি ও মহড়া। এবার মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের দুটি স্থানে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হবে: মাধবপুরের জোড়া মণ্ডপে বিষ্ণুপ্রিয়া-মণিপুরি সম্প্রদায়ের ১৮৩তম এবং আদমপুর মণিপুরি কালচারাল কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে মীতৈ সম্প্রদায়ের ৪০তম মহারাস উৎসব।

‎রাসনৃত্যের প্রতিটি ধাপ, হাতের ভঙ্গি আর মুখের অভিব্যক্তি নিখুঁতভাবে অনুশীলন করছে তরুণ-তরুণীরা। শিক্ষকরা প্রতিদিন বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত শিল্পীদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। সারারাত ধরে চলে নৃত্য, গান আর ভক্তিমূলক উপস্থাপনা।

‎মণিপুরী মহারাসলীলা সেবা সংঘ, মৌলভীবাজারের সভাপতি যোগেশ্বর চ্যাটাজির মতে, ধর্মীয় ভাব, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনে মহারাস কেবল মণিপুরিদের নয়- এটি হয়ে উঠেছে মিলনমেলা, সম্প্রীতির প্রতীক। উৎসবকে ঘিরে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাখন চন্দ্র সূত্রধর। ১৮৪২ সালে প্রথমবারের মতো কমলগঞ্জের মাধবপুরে মহারাস উৎসব শুরু হয়েছিল।