ঢাকা প্রতিনিধি
দেশজুড়ে হিন্দু ও অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর খুন, নির্যাতন, জমি দখল, চাঁদাবাজি ও হামলার প্রতিবাদে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট। বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) সকাল ১১টায় আয়োজিত এ কর্মসূচি থেকে সংগঠনটি দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে। পাশাপাশি সংখ্যালঘু সমস্যার স্থায়ী সমাধানে জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসন ও পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জোর দাবি জানানো হয়।
সংগঠনের নেতারা জানান, চট্টগ্রামের আকাশ দাস, অঞ্জন মল্লিক, সিরাজগঞ্জের তাপস মাহাতো, চাঁদপুরের অলোক মোহন্ত, কক্সবাজারের কৌশিক বড়ুয়া, মুন্সীগঞ্জের রেখা রাণীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া হত্যা, নির্যাতন, জমি দখল ও চাঁদাবাজির ঘটনার প্রতিবাদেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
মানববন্ধন শেষে সংগঠনের সভাপতি অ্যাডভোকেট দীনবন্ধু রায়ের সভাপতিত্বে এক পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য দেন নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট প্রদীপ কুমার পাল, প্রধান সমন্বয়কারী বিজয় কৃষ্ণ ভট্টাচার্য, মহাসচিব অ্যাডভোকেট গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক, যুগ্ম মহাসচিব নকুল কুমার মণ্ডল, অ্যাডভোকেট শুভ মজুমদার, সহ বর্ম বিষয়ক সম্পাদক সঞ্জয় চক্রবর্তী, ঢাকা মহানগরের সভাপতি শ্যামল ঘোষ, হিন্দু যুব মহাজোটের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মৃণাল কান্তি মধু, সাধারণ সম্পাদক সুজন গাইন, অর্থ সম্পাদক মধার মিত্র, ছাত্র মহাজোটের সভাপতি সজিব কুন্ডু, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাণীব্রত সাহা, দপ্তর সম্পাদক সজিব দাস, গণমাধ্যম বিষয়ক সম্পাদক শুভজিৎ চক্রবর্তী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব নূপুর বসাক, মহানগর উত্তরের নেতা অণু রায়, সবুজ দত্ত, বিষ্ণু বর্মনসহ আরও অনেকে।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর হিন্দু সম্প্রদায় বৈষম্য কমা ও নিরাপত্তা বৃদ্ধির প্রত্যাশা করলেও বাস্তবে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। তাদের দাবি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংবিধান সংস্কার কমিটি ও নির্বাচন সংস্কার কমিটিসহ গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে হিন্দু সম্প্রদায়ের মতামত উপেক্ষিত হয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, জনসংখ্যার অনুপাতে জাতীয় সংসদে হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্তত ৩০ জন প্রতিনিধির থাকা উচিত, কিন্তু বাস্তবে তাদের কার্যকর উপস্থিতি নেই। সংসদে থাকা অল্পসংখ্যক সদস্যও নিজেদের হিন্দু পরিচয় স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন না বলে অভিযোগ করেন তারা। একই সঙ্গে মন্ত্রিসভায়ও হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব অত্যন্ত সীমিত বলে উল্লেখ করা হয়।
সমাবেশে জানানো হয়, স্বাধীনতার প্রাক্কালে দেশে হিন্দু জনসংখ্যা ছিল প্রায় ২২ শতাংশ, যা বর্তমানে কমে প্রায় ৮ শতাংশে নেমে এসেছে। রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের অভাব, নিরাপত্তাহীনতা, সামাজিক বৈষম্য এবং ধারাবাহিক নির্যাতনের কারণে এই সম্প্রদায় অস্তিত্ব সংকটে পড়ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন বক্তারা। বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামী ১৫ থেকে ২০ বছরের মধ্যে এই হার আরও উদ্বেগজনকভাবে কমে যেতে পারে বলেও তারা সতর্ক করেন।
বক্তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলা, অগ্নিসংযোগ, খুন, হত্যাচেষ্টা, প্রাণনাশের হুমকি, জমি দখল, প্রতিমা ভাঙচুর, সংখ্যালঘু পরিবারকে দেশত্যাগে বাধ্য করা, কিশোরী অপহরণ, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, চুরি-ডাকাতি ও চাঁদাবাজির ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানান। তারা বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সক্রিয় থাকলেও বাস্তবে সংখ্যালঘুদের ওপর অপরাধ কমছে না; বরং তা বেড়েই চলেছে।
এ অবস্থায় সংখ্যালঘু নির্যাতন বন্ধ, দেশত্যাগ রোধ এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে জাতীয় সংসদসহ রাষ্ট্রের সব পর্যায়ে সংরক্ষিত আসন চালু ও পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবি পুনরায় তুলে ধরেন নেতারা।
মানববন্ধন
সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ পৃথক নির্বাচন চায় জাতীয় হিন্দু মহাজোট
April 3, 2026
207 Views
Create a Social Card
Convert this news into a shareable image card instantly.