কুমার রায়, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

আগামী ২৬ মার্চ ২০২৬ ইং রোজ বৃহস্পতিবার কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার জোরগাছ বাজার সংলগ্ন, ব্রহ্মপুত্র নদে হতে যাচ্ছে অষ্টমীর স্নান মেলা। এই অষ্টমীর স্নান মেলাটি বাংলাদেশের রংপুর বিভাগের নদীবেষ্টিত কুড়িগ্রাম চিলমারী উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে হয়ে থাকে। 'অষ্টমীর স্নান'কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি উত্তরবঙ্গের লোকজ সংস্কৃতির এক বিশাল মিলনমেলা। প্রতিবছর চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের অষ্টমী তিথিতে এই পুণ্যস্নান অনুষ্ঠিত হয়।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, আদি ব্রহ্মপুত্র নদের এই অংশে স্নান করলে সকল পাপ মোচন হয়। জনশ্রুতি এবং পৌরাণিক কাহিনী মতে, প্রাচীন কামরূপ রাজ্যের অন্তর্গত এই অঞ্চলে ভগবান বিষ্ণুর ষষ্ঠ অবতার পরশুরাম মুনি যখন কুঠার দিয়ে মাতৃহত্যার পাপ থেকে মুক্তি পাচ্ছিলেন না, তখন তিনি হিমালয়ের মানস সরোবর থেকে নির্গত ব্রহ্মপুত্র নদে স্নান করে পাপমুক্ত হন এবং তাঁর হাতের কুঠারটি খসে পড়ে। চিলমারীর এই স্থানটি ব্রহ্মপুত্রের অন্যতম পবিত্র মোহনা হিসেবে বিবেচিত এবং পরশুরামের এই পুণ্যস্নানের স্মৃতি স্মরণে রেখে চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের অষ্টমী তিথিতে লাখ লাখ পুণ্যার্থী এই ব্রহ্মপুত্র নদে সমবেত হন। ধারণা করা হয়, চিলমারীর এই অংশটি ব্রহ্মপুত্রের আদি ও পবিত্রতম প্রবাহপথের অন্তর্ভুক্ত।

​প্রতিবছর পঞ্জিকা মতে নির্দিষ্ট তিথিতে এই স্নান শুরু হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত এবং প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকেও অসংখ্য মানুষ এখানে আসেন৷ নির্দিষ্ট শুভক্ষণে "ওঁ ব্রহ্মপুত্র মহাবাহো সর্বপাপ হরোভব" মন্ত্র উচ্চারণের মাধ্যমে ভক্তরা নদে অবগাহন করে হাতে ফুল, বেলপাতা, ধান, দূর্বা এবং ফলমূল অর্পণ করেন। স্নান শেষে ভক্তরা তাদের পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তির কামনায় জলদান বা তর্পণ করেন। নদীর তীরে পুরোহিতদের উপস্থিতিতে দান ও পূজা-অর্চনার ধুম পড়ে যায়।

বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টাণ কল্যাণ ফ্রন্ট কুড়িগ্রাম জেলার আহবায়ক, সুভাষ সরকার বলেন ব্রহ্মপুত্র স্নান মেলাকে কেন্দ্র করে তীর্থযাত্রীদের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসন নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন লাখো পুণ্যার্থীর আগমনে ব্রহ্মপুত্রের তীর পরিণত হয় আনন্দমুখর মেলায়। যদিও কালের বিবর্তনে এবং নদী ভাঙনের ফলে ব্রহ্মপুত্র নদের মূল ধারা ও মেলার স্থান বারবার পরিবর্তিত হয়েছে, তবুও এর আধ্যাত্মিক আবেদন ও ঐতিহ্যের টান কমেনি। এক সময়ের জাঁকজমকপূর্ণ চিলমারী বন্দরের জৌলুস কিছুটা কমলেও, আজও এই মেলা উত্তরবঙ্গের মানুষের হৃদয়ে এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে।