বোয়ালখালী প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার বিদগ্রামে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী গীতা শিক্ষালয়ে এক প্রাণবন্ত অভিভাবক সমাবেশ ও কাউন্সিলিং সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরতে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে স্থানীয় অভিভাবক ও সুধীজনের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়।

ত্রিপুরাশ্বরী কালী মন্দির স্থায়ী কমিটির সভাপতি অনিল চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে এবং পায়েল দাশের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি পরিচালিত হয়। শুরুতেই মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন গীতা স্কুলের সভাপতি তপন চক্রবর্তী। পরে পায়েল, তিন্নি ও সাথীর সম্মিলিত কণ্ঠে সমবেত গীতা পাঠ পরিবেশিত হয়।

অনুষ্ঠানে কাউন্সিলিং বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ গীতা শিক্ষা পরিষদ চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক এবং বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ বোয়ালখালী উপজেলার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য উজ্জ্বল শুক্ল দাশ। তিনি বলেন, “নতুন প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে গীতা শিক্ষা ও নৈতিক শিক্ষার বিকল্প নেই। শুধুমাত্র শারীরিক গঠন মানুষকে পরিপূর্ণ মানুষ করে না—প্রয়োজন মূল্যবোধ ও নৈতিক শিক্ষা।”

এছাড়া বক্তব্য দেন জেলার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও প্রধান শিক্ষক সুমন কুমার দাশ। সাংগঠনিক বক্তব্যে বাগীশিপ বোয়ালখালী উপজেলার প্রধান উপদেষ্টা বিপ্লব দাশ বাবু বলেন, “সমাজে মানুষের প্রকৃত মুক্তি সম্ভব একমাত্র গীতা ও নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউপি সদস্য টিটুল ভঞ্জ, বাগীশিপ বোয়ালখালী উপজেলার সাধারণ সম্পাদক রুপন দাশ, যুগ্ম সম্পাদক নিখিল চৌধুরী, পটিয়া উপজেলার প্রাক্তন সভাপতি সুচরিতা শীল, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নিলীমা দে, বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

অনুষ্ঠানের একটি আকর্ষণীয় অংশ ছিল অভিভাবকদের অংশগ্রহণে উলুধ্বনি প্রতিযোগিতা। এতে প্রথম স্থান অর্জন করেন বিজয়া চৌধুরী, যিনি পুরস্কার হিসেবে শঙ্খ লাভ করেন। এছাড়া বিউটি দাশ কাঁসা পুরস্কার অর্জন করেন।

সমগ্র আয়োজনটি ধর্মীয় আবহ, নৈতিক শিক্ষা ও সামাজিক সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে উপস্থিত সবার মাঝে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।