শাস্ত্রমতে, চৈত্র মাসের কৃষ্ণা ত্রয়োদশী তিথিতে শতভিষা নক্ষত্রের সংযোগ ঘটলে সেই তিথি ‘বারুণী’ নামে পরিচিত। এই পবিত্র দিনে স্নান করলে বহু শত সূর্যগ্রহণকালে গঙ্গাস্নানের সমতুল্য পুণ্য লাভ হয় বলে বিশ্বাস করা হয়। হিমালয় কন্যা গঙ্গার অপর নামও বারুণী। প্রতি বছর চৈত্র মাসের শতভিষা নক্ষত্রযুক্ত মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশীতে এ পুণ্যস্নান অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে, যা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আচার।
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, জীবনের পাপ থেকে মুক্তি এবং আত্মশুদ্ধির আশায় ভক্তরা এ দিনে পুণ্যস্নানে অংশগ্রহণ করেন। পুণ্য অর্জনের প্রত্যাশায় দেশজুড়ে ভক্তদের ঢল নামে বিভিন্ন তীর্থস্থানে।
প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও চট্টগ্রাম নগরীর দক্ষিণ কাট্টলীর ঐতিহ্যবাহী রাণী রাসমণি ঘাটে বারুণী স্নান, মেলা ও ধর্মীয় আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সার্বজনীন মহাতীর্থ বারুণী স্নান উদ্যাপন পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সকাল থেকেই বিভিন্ন বয়সী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উপস্থিতিতে মুখরিত হয়ে ওঠে ঘাট এলাকা। ভক্তরা পবিত্র স্নান সম্পন্ন করে পূজা-অর্চনায় অংশ নেন এবং দিনব্যাপী ধর্মীয় পরিবেশে সময় কাটান।
দুইদিনব্যাপী এ আয়োজনকে ঘিরে ঘাট এলাকায় মেলারও ব্যবস্থা করা হয়। পুণ্যার্থীদের পদচারণায় পুরো এলাকা দিনভর উৎসবমুখর পরিবেশ ধারণ করে।
আয়োজকরা জানান, এই পুণ্যস্নানের মূল লক্ষ্য জীবের মুক্তি সাধন। একই সঙ্গে ঋষি ও সন্ন্যাসীদের সান্নিধ্য লাভের সুযোগ সৃষ্টি হয় এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য ও ঐক্যের বন্ধন দৃঢ় হয়।
বৈষ্ণব মতানুসারে, সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মা তাঁর কমণ্ডলুর জল দিয়ে ভগবান বিষ্ণুর পদ ধৌত করেন, সেখান থেকেই গঙ্গার উৎপত্তি। সেই গঙ্গার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভক্তি নিবেদনের অংশ হিসেবেই প্রতিবছর মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশী তিথিতে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বারুণী স্নানে অংশ নেন।
Create a Social Card
Convert this news into a shareable image card instantly.