স্ত্রীকে ফিরে পেতে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ বাংলাদেশি যুবক অরিজিৎ
ভালোবাসার সম্পর্কের পর পরিবারের অমতে বিয়ে করেছিলেন বাংলাদেশের দুই তরুণ-তরুণী। কিন্তু বিয়ের এক মাসের মধ্যেই আলাদা হয়ে যান তারা। স্ত্রীকে ফিরে পেতে এবার ভারতের কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন বাংলাদেশের নরসিংদীর বাসিন্দা অরিজিৎ সরকার।
পেশায় ব্যবসায়ী অরিজিৎ জানান, তাদের বাড়ি নরসিংদীতে। পাশের বাড়ির মেয়ে মমি সাহার সঙ্গে প্রায় দুই বছর ধরে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তবে শুরু থেকেই এ সম্পর্ক মেনে নেয়নি মেয়ের পরিবার। পরে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পরিবারের অমতেই বিয়ে করেন তারা।
অরিজিতের অভিযোগ, বিয়ের কিছুদিন পরই গত অক্টোবর মাসে মমির বাবা-মা তাকে জোর করে বাংলাদেশ থেকে আগরতলা সীমান্ত পেরিয়ে অবৈধভাবে ভারতে নিয়ে যান। পরে তাকে কলকাতার কাছাকাছি বিরাটি এলাকায় পলি সাহা ও উত্তম সাহা নামে আত্মীয়দের বাড়িতে আটকে রাখা হয়।
অরিজিৎ দাবি করেন, ওই আত্মীয়রা মূলত বাংলাদেশের নাগরিক হলেও অবৈধভাবে ভারতের নাগরিকত্ব নিয়ে সেখানে বসবাস করছেন। উত্তম সাহা একজন ব্যবসায়ী, যিনি ব্যবসায়িক কাজে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যাতায়াত করেন।
স্ত্রীকে হারিয়ে প্রথম দিকে কোনো খোঁজ পাননি অরিজিৎ। পরে ভারতে যাওয়ার প্রায় ১৫ দিন পর মমি হোয়াটসঅ্যাপে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং জানান, তাকে জোর করে আটকে রাখা হয়েছে। এরপর স্ত্রীকে উদ্ধার করতে ভারতীয় ভিসা নিয়ে ভারতে যান অরিজিৎ।
তিনি জানান, চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি ভারতে গিয়ে ৪ জানুয়ারি বিরাটি এলাকায় স্ত্রীর কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। তবে সেখানে গেলে মমির আত্মীয়দের হাতে মারধরের শিকার হন তিনি। কোনোভাবে প্রাণে বেঁচে সেখান থেকে পালিয়ে আসেন।
ঘটনার পর তিনি স্থানীয় নিমতা থানায় একাধিকবার যোগাযোগ করলেও পুলিশ অভিযোগ নিতে রাজি হয়নি বলে অভিযোগ করেন অরিজিৎ। পরে আইনজীবী মুকুল বিশ্বাসের সহায়তায় থানার কর্মকর্তার সঙ্গেও যোগাযোগ করেন তিনি। কিন্তু এখনো পর্যন্ত এ ঘটনায় পুলিশ কোনো এফআইআর নেয়নি বলেও দাবি তার।
এ পরিস্থিতিতে শেষ পর্যন্ত স্ত্রীকে ফিরে পেতে সোমবার কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন অরিজিৎ সরকার। জানা গেছে, আগামী ১৭ মার্চ এ মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
Create a Social Card
Convert this news into a shareable image card instantly.