চ্যানেল ওম নিউজ ডেস্ক
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার নির্ধারিত আর্থিক সহায়তার অর্থ আনুষ্ঠানিকভাবে নিহত দীপু চন্দ্র দাসের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের লক্ষ্যে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে উপস্থিত হয়েছেন বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোট–এর নেতৃবৃন্দ।

ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলায় মিথ্যা ধর্ম অবমাননার অভিযোগে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার শিকার দীপু চন্দ্র দাসের পরিবারের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে “প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল” থেকে মোট ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে জারি করা সরকারি আদেশে জানানো হয়েছে, এই অনুদান সরাসরি নগদ নয়; বরং পরিবার সঞ্চয়পত্র ইস্যুর মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের অনুকূলে সংরক্ষিত থাকবে। শিক্ষা উপদেষ্টার ডিও-এর প্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নিহতের পিতা রবিলাল চন্দ্র দাসকে ১০ লাখ টাকা, স্ত্রী মেঘনা রবি দাসকে ১০ লাখ টাকা এবং স্ত্রী মেঘনা রবি দাস ও নাবালক কন্যা গীতিকা রানী দাসের যৌথ নামে ৫ লাখ টাকা প্রদান করা হয়েছে।

যৌথ নামে ইস্যুকৃত ৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র গীতিকা রানী দাস সাবালক না হওয়া পর্যন্ত নগদায়ন করা যাবে না। ওই অর্থের প্রকৃত মালিক হবেন কেবল গীতিকা রানী দাস। তবে এই সময়কালে তার মা মেঘনা রবি দাস সঞ্চয়পত্রের মুনাফা উত্তোলন করতে পারবেন, মূল অর্থ নয়।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সঞ্চয়পত্র ইস্যু ও অর্থ হস্তান্তরের কার্যক্রম বাস্তবায়নে সোনালী ব্যাংক লিমিটেড–এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এ সময় জোটের নেতারা সরকারের মানবিক উদ্যোগের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, দীপু চন্দ্র দাসের মর্মান্তিক মৃত্যু সনাতন সমাজে গভীর শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। সরকারের এই সহায়তা শোকাহত পরিবারের জন্য কিছুটা হলেও স্বস্তি বয়ে আনবে।

অনুষ্ঠান শেষে তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত সনাতন পরিবারগুলোর পাশে সরকার ও সমাজ সম্মিলিতভাবে দাঁড়াবে এবং ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।