নিদর্শন বড়ুয়া জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে আমার ভাইপো ফোন করে জানায়, দোকানে আগুন লেগেছে। দৌড়ে গিয়ে দেখি—সব ছাই। চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ, আটা-ময়দা, এমনকি দোকানের আসবাবও পুড়ে গেছে। প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, তিনি গত ১৫ বছর ধরে দোকানদারি করছেন। এর আগে কখনো কোনো সমস্যা হয়নি। কিন্তু এক মাস আগে থেকেই শুরু হয় অজ্ঞাত নম্বর থেকে চাঁদার দাবি।
নিদর্শনের দাবি, এক মাস আগে তার মোবাইলে একটি অচেনা নম্বর থেকে কল আসে। তারা বলে, আমার ছেলের বিদেশে চাকরি আছে, তাই আমাকে এক লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে। আমি রাজি না হলে ৮০ হাজার, তারপর ৫০ হাজার, শেষে ২০ হাজার টাকায় নামিয়ে আনে। নম্বরগুলো ছিল অ্যাপ ব্যবহার করে করা, ফোন ব্যাক করলে যায় না।
৫ অক্টোবর রাতে হেলমেট পরা তিনজন যুবক মোটরসাইকেলে এসে তার দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে দুটি গুলি ছোড়ে। একটি গুলি দোকানের কাচ ভেঙে দেয়, আরেকটি কাছাকাছি এসে পড়ে। “তারা যাওয়ার সময় বলে, টাকা না দিলে ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিব, মেরেও ফেলব।”
এই ঘটনার পর থানায় অভিযোগ দেন নিদর্শন। পুলিশ তদন্ত করে যায়। আগুন লাগার ঘটনার পর শুক্রবার সকালে পুলিশ আবার ঘটনাস্থলে আসে।
নিদর্শন বড়ুয়া বলেন, আমি একজন সংখ্যালঘু মানুষ। কাউকে চিনি না, কার বিরুদ্ধে অভিযোগ করব? আমরা শুধু শান্তি আর নিরাপত্তা চাই।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসা স্থানীয় ইউপি সদস্য উজ্জ্বল বড়ুয়া বলেন, গত বৃহস্পতিবার রাতে তার দোকান পুড়ে গেছে। কিভাবে আগুন লেগেছে জানি না। তবে, শুনেছি মাসখানেক পূর্বে তার কাছ কে বা কারা চাঁদা চেয়েছিল। তারা হুমকিও দিয়েছিল। ঘটনা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের জন্য প্রশাসনের কাছে দাবী জানাচ্ছি। এই কারনে নিরীহ কেউ যাতে হয়রানি শিকার না হয়।
এই বিষয়ে পূর্বগুজরা তদন্ত ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক দীপ্ত দাশ রায় জানান, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। পুড়ে যাওয়া দোকানের সাথে চাঁদাবাজির ঘটনার সম্পৃক্ততার কোন তথ্য আমরা এখনও পায় নি। তবে, তার অভিযোগের ভিত্তিতে চাঁদাবাজির ঘটনা নিয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে।
Create a Social Card
Convert this news into a shareable image card instantly.