চ্যানেল ওম নিউজ ডেস্ক

বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলায় ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার জেরে এক ব্যক্তির মরদেহ দাফন না দাহ—এ নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত যাচাই-বাছাই শেষে ইসলামি রীতি অনুযায়ী দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে বাগেরহাট ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহটি মোল্লাহাট থানায় আনা হয়। সেখানে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রশাসন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়। পরে মরদেহ মৃতের স্ত্রী ও সন্তানের কাছে হস্তান্তর করা হলে তাদের ইচ্ছানুযায়ী গোসল সম্পন্ন করে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মৃত ব্যক্তির নাম সুব্রত পোদ্দার কানু (৪৩)। তিনি প্রায় ২১ বছর আগে এফিডেভিটের মাধ্যমে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং নাম পরিবর্তন করে কাজী সোহাগ রাখেন। তিনি গোপালগঞ্জের তেঘরিয়া গ্রামের বাসিন্দা শুকলাল পোদ্দার ও রিতা রানী পোদ্দারের ছেলে।

এর আগে বুধবার (১৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় মোল্লাহাট উপজেলার দত্তডাঙ্গা রাইরসরাজ সেবাশ্রমে অবস্থানকালে তার মৃত্যু হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) স্ত্রী-সন্তানদের না জানিয়ে মরদেহ শ্মশানে নেওয়া হলে দাফন-দাহ নিয়ে বিরোধ তৈরি হয় এবং এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃতের স্ত্রী ও সন্তান ইসলামি রীতিতে দাফনের দাবি জানান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মরদেহ নিজেদের হেফাজতে নেয়।

এদিকে, মৃতের মা রিতা রানী পোদ্দার দাবি করেন, তার ছেলে ইসলাম গ্রহণের পর পুনরায় হিন্দু ধর্মে ফিরে আসেন। তবে এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি।

মোল্লাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী রমজানুল হক জানান, কাগজপত্র যাচাই ও পারিবারিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে দাফন সম্পন্ন হয়েছে।